মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৫৮ অপরাহ্ন

ব্রেকিং নিউজ :
প্রতিনিধি আবশ্যক: অনলাইন পত্রিকা আমার সুরমা ডটকমের জন্য প্রতিনিধি নিয়োগ দেয়া হবে। আগ্রহীরা যোগাযোগ করুন : ০১৭১৮-৬৮১২৮১, ০১৭৯৮-৬৭৬৩০১
সংবাদ শিরোনাম :
দিরাইয়ে অনলাইন জুয়াড়ির ২ সদস্য আটক সাগর পথে ইউরোপ যাত্রায় স্বপ্নভঙ্গ: সুনামগঞ্জে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৫: ৯ দালালের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা ইউরোপ যাওয়া হলো না সুনামগঞ্জের ১২ জনের, পরিবারে শোকের মাতম সুনামগঞ্জে পৃথক সংঘর্ষে আহত অর্ধশতাধিক, ভাঙচুর, লুটপাট, আটক ৭ সুনামগঞ্জে মর্মান্তিক মোটর সাইকেল দুর্ঘটনায় হতাহত ৩ সম্পাদকীয়: ঈদুল ফিতরে ভ্রাতৃত্বের দরজা খুলে যাক দেশের আকাশে চাঁদ দেখা গেছে, কাল ঈদ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, মধ্যপ্রাচ্য ছেড়ে পালাচ্ছে মার্কিন রণতরী জেরাল্ড আর ফোর্ড শীর্ষ নেতা লারিজানি হত্যার শোধ হবে ‘ভয়াবহ’, হুঁশিয়ারি ইরানের আযাদ দ্বীনী এদাার বোর্ডের কেন্দ্রীয় পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ: পাসের হার ৮৭.৯৫
বাংলাদেশের যে গ্রামে কোরবানি ছাড়া গরু জবাই হয় না

বাংলাদেশের যে গ্রামে কোরবানি ছাড়া গরু জবাই হয় না

আমার সুরমা ডটকম:

গরু জবাই ও দুধ বিক্রি নিষিদ্ধ কবে হয়েছে গ্রামের কেউ জানে না। সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম অধ্যুষিত গ্রামের সবাই বংশপরম্পরায় রীতি মেনে চলছেন। গ্রামে প্রচুর গরু পালন হয়। কিন্তু গ্রামের মধ্য সেই গরু কেউ জবাই করেন না। একই সঙ্গে গ্রামের মানুষ গাভীর দুধ বিক্রি করেন না। এমনকি কেউ গ্রামে গরুর দুধের মিষ্টি ও দুধ চা পর্যন্ত তৈরি করেন না। ঘটনাটি অবিশ্বাস্য মনে হলেও এটাই সত্যি।

যশোর শহর থেকে ৬ কি.মি পূর্বে ভৈরব নদের তীর ঘেষা গ্রাম কচুয়া ইউনিয়নের ভগবতীতলা। গ্রামের মুসলিম ও হিন্দু দুই সম্প্রদায়ই এই প্রথাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে আসছেন অনেক দিন ধরে। তবে অবশ্য মুসলমানরা শুধু কোরবানিতে গরু জবাই করেন।

গরু জবাই ও দুধ বিক্রি নিয়ে গ্রামে নানা মিথ রয়েছে। গ্রামবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে চমকপ্রদ তথ্য। শহর থেকে নড়াইল রোড ধরে চার কিলোমিটার পর দাইতলা। সেখান থেকে ডানে ইটের সোলিং রাস্তা ধরে প্রায় দুই কিলোমিটার পার হওয়ার পর গ্রামটির শুরু। গ্রামের জনসংখ্যা ২ হাজারের মতো। এরমধ্যে ৫শ’র বেশি হিন্দু সম্প্রদায়ের। বাকি সবাই মুসলমান।

কেন গরু জবাই, দুধ বিক্রি করা হয় না জানতে চাওয়া হয় ভগবতীতলা গ্রামের বাসিন্দাদের কাছে। একজন প্রবীণ অধিবাসী লিয়াকত আলী। যার বয়স ষাটের ওপরে। তিনি বলেন, অনেক অনেক বছর আগে এক ব্যক্তি আশপাশের গ্রামে গরুর দুধের সন্ধান করেছিলেন। কিন্তু কোথাও না পেয়ে আমাদের গ্রামে আসেন। এখানে এসে দুধ পেয়েছিলেন। তখন আমাদের গ্রামের নাম ছিল রুপাই মানিক গ্রাম। দুধ পাওয়ার পর ওই ব্যক্তি গ্রামের নাম বদলে রাখেন ভাগ্যবতীতলা। আর ঘোষণা দেন এই গ্রামের মানুষ দুধ বিক্রি করতে পারবে না। তবে কেউ চাইলে দেওয়া যাবে। গ্রামে গরু জবাই করা যাবে না। তখন থেকে গ্রামের মানুষ কোরবানি ছাড়া অন্য সময় গরু জবাই করে না। দুধও বিক্রি করে না।

তিনি আরও বলেন, গ্রামে একজন বাকপ্রতিবন্ধী নারী ছিলেন। তিনি একবার গরুর ঘি বিক্রি করেছিলেন। এজন্য তার গায়ে ঘা হয়ে মৃত্যু হয়।

একবার মৌলভী মোহাম্মদ নামের একজন ঘোষণা দিয়েছিলেন ‘আগের যুগ নেই, আসেন গরু জবাই করি। কিছুই হবে না। তিনি গরু জবাই করেছিলেন। পরে তিনি রোগে ভুগে মারা যান।

গ্রামের আরেক বাসিন্দা আবুল হোসেন (৬০) বলেন, বছর বিশেক আগে গ্রামের মাঠে আর্মি (সেনাবাহিনী) এসেছিল প্রশিক্ষণের কাজে। গ্রামের ঘটনা শুনে একজন মেজর বলেছিলেন ‘আমরা গরু জবাই করে খাব। কিচ্ছু হবে না। তিনি আমাদের গ্রাম থেকে একটি গরু কিনে জবাই করেছিলেন। পরে শুনেছি, ওই মেজর প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

ভ্যান চালক আবদু রশিদ (৬০) বলেন, অভয়নগরের নওয়াপাড়ায় মেয়ের বিয়ে হয়েছে। একবার মেয়েকে একটা গাভী গরু দিয়েছিলাম। মেয়ে গরুর দুধ বিক্রি করেছিল। এজন্য গরু শুকিয়ে রুগ্ন হয়ে পড়েছিল। পরে নিষেধ করেছি দুধ বিক্রি করতে। দুধ বিক্রি বন্ধ করার পর গরু আবার সুস্থ হয়েছে।

পঞ্চাশোর্ধ্ব মর্জিনা বেগম বলেন, শাশুড়ির কাছ থেকে শুনেছি, গরু জবাই ও দুধ বিক্রি করা যাবে না। এনির্দেশ আমারও মেনে চলছি। গাভী গরুর চেয়ে এড়ে গরু বেশি পালন করি।

হাফিজুর রহমান নামের আরেক বাসিন্দা বলেন, গরু জবাই ও দুধ বিক্রি নিষিদ্ধ হলেও খাওয়া বন্ধ নেই। শুধু গ্রামের মৌজায় কোরবানি ছাড়া গরু জবাই হয় না।

ভগবতীতলা বাজারের মিষ্টি বিক্রেতা ফজর আলী বলেন, দুধের কোনো মিষ্টি আমরা বাজারে তৈরি করি না। পাশের গ্রাম রূপদিয়া থেকে এনে বিক্রি করি। গ্রামে দুধের মিষ্টি তৈরি করতে গেলে নষ্ট হয়ে যায়। এজন্য আর ঝুঁকি নেই না। শুধু দুধের মিষ্টি নয়, দুধ চা কেউ বিক্রি করে না।

সূত্র: যুগান্তর

নিউজটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2017-2019 AmarSurma.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com